মানসিক রোগের লক্ষণ: কোনগুলো স্বাভাবিক, কোনগুলো নয়
সবার মন খারাপ হয়। পরীক্ষায় খারাপ করলে, প্রিয়জনের সাথে ঝগড়া হলে, চাকরি না পেলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রশ্নটা হলো, কখন এটা আর সাধারণ মন খারাপ থাকে না।
মূল পার্থক্য তিনটা জিনিসে
- সময়। সাধারণ মন খারাপ কয়েক দিনে কেটে যায়। যদি টানা দুই সপ্তাহের বেশি থাকে, সেটা আলাদা করে দেখার বিষয়।
- তীব্রতা। কষ্ট এত বেশি যে সহ্য করা কঠিন মনে হচ্ছে।
- কাজের ক্ষতি। পড়াশোনা, চাকরি, সংসার, সম্পর্ক চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
মনের দিক থেকে
- টানা দুই সপ্তাহের বেশি মন খারাপ বা শূন্য শূন্য লাগা
- আগে যা ভালো লাগত তাতে আর আগ্রহ না পাওয়া
- সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা ভয়
- নিজেকে অকারণে দোষী বা মূল্যহীন মনে হওয়া
- মনোযোগ দিতে বা সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
- রাগ হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া
শরীরের দিক থেকে
- ঘুম অনেক কমে বা বেড়ে যাওয়া
- খাওয়ায় বড় পরিবর্তন, ওজন কমা বা বাড়া
- সারাক্ষণ ক্লান্তি, শক্তি না পাওয়া
- ডাক্তার কারণ খুঁজে পান না এমন ব্যথা, বুক ধড়ফড়, পেটের সমস্যা
আচরণের দিক থেকে
- মানুষজন থেকে সরে যাওয়া, ঘর থেকে বেরোতে না চাওয়া
- কাজ বা পড়াশোনায় হঠাৎ পিছিয়ে পড়া
- নেশার দিকে ঝুঁকে পড়া
জরুরি লক্ষণ: নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, বেঁচে থেকে লাভ নেই এমন ভাবনা, বা এমন কিছু দেখা বা শোনা যা অন্যরা পাচ্ছে না। এগুলোর যেকোনো একটা থাকলে অপেক্ষা করবেন না, আজই একজন সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে কথা বলুন। কান পেতে রই: ০৯৬১২-১১৯৯১১।
লক্ষণ মিললেই কি আমি মানসিক রোগী?
না। উপরের তালিকা রোগ নির্ণয়ের জন্য না, সতর্ক হওয়ার জন্য। রোগ নির্ণয় করতে পারেন শুধু একজন প্রশিক্ষিত পেশাদার, আপনার পুরো ইতিহাস শুনে।
আর উল্টোটাও সত্যি। লক্ষণ পুরোপুরি না মিললেও যদি ভেতরটা ভারী লাগে, কথা বলার কেউ না থাকে, তাহলেও কথা বলা যায়। সাহায্য নিতে অসুস্থ হওয়া লাগে না।
কার কাছে যাবেন
ওষুধ লাগতে পারে মনে হলে সাইকিয়াট্রিস্ট, কথা বলে সমাধান খুঁজতে চাইলে সাইকোলজিস্ট। পার্থক্যটা এখানে বিস্তারিত লিখেছি। শুধু মন খুলে বলতে চাইলে একজন প্রশিক্ষিত লিসেনারও অনেকটা হালকা করে দিতে পারেন।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।