মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৮টা অভ্যাস
শরীরের যত্নে আমরা যা করি, মনের বেলায় সাধারণত কিছুই করি না। অথচ মনও শরীরের মতোই, নিয়মিত যত্ন পেলে ভালো থাকে, অবহেলায় ভেঙে পড়ে।
১. ঘুমকে সবার আগে রাখুন
মানসিক স্বাস্থ্যের একক সবচেয়ে বড় ভিত্তি ঘুম। প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে ঘুমানো আর ওঠা, ৭-৮ ঘণ্টা। এটা ঠিক না থাকলে বাকি সব কৌশল অর্ধেক কাজ করে।
২. শরীর নাড়ান, প্রতিদিন
জিমে যাওয়া লাগে না। দিনে ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটাই ডিপ্রেশন আর দুশ্চিন্তার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে কমায়। এটা এতবার প্রমাণিত যে অনেক দেশে ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে হাঁটা লেখেন।
৩. মানুষের সাথে থাকুন
একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ধূমপানের মতো ক্ষতিকর। সপ্তাহে অন্তত একজন কাছের মানুষের সাথে ফোনে না, সামনাসামনি বা ভয়েসে আসল কথা বলুন। "কেমন আছিস" এর উত্তরে সত্যিটা বলার মতো একজন হলেও রাখুন।
৪. স্ক্রলের লাগাম ধরুন
সমস্যা ফোন না, অন্যের সাজানো জীবনের সাথে নিজের আসল জীবনের অবিরাম তুলনা। ঘুমের আগের এক ঘণ্টা আর ঘুম থেকে ওঠার প্রথম আধা ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকা দিয়ে শুরু করুন।
৫. রোদ আর বাইরের হাওয়া
সকালের রোদ শরীরের ঘড়ি ঠিক রাখে, মেজাজও। দিনে অন্তত ১৫-২০ মিনিট বাইরে থাকার চেষ্টা করুন।
৬. মনের কথা জমিয়ে রাখবেন না
চাপা কষ্ট গায়েব হয় না, সুদে-আসলে বাড়ে। বিশ্বস্ত কাউকে বলুন। কাউকে না পেলে লিখুন। লেখাও গবেষণায় প্রমাণিত একটা মুক্তির পথ।
৭. না বলা শিখুন
সব দায়িত্ব, সব অনুরোধ, সব দাওয়াতে হ্যাঁ বলা মানে নিজের জন্য বরাদ্দ শূন্য। সীমানা টানা স্বার্থপরতা না, টিকে থাকার শর্ত।
৮. ছোট আনন্দ ইচ্ছা করে রাখুন
সপ্তাহের রুটিনে এমন কিছু রাখুন যা শুধুই ভালো লাগার জন্য। গান, বাগান, রান্না, খেলা, যা-ই হোক। এগুলো বিলাসিতা না, মানসিক পুষ্টি।
একটা সৎ কথা। এই অভ্যাসগুলো ভালো থাকা মানুষকে ভালো রাখে, আর হালকা চাপ সামলাতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি টানা দুই সপ্তাহের বেশি ভেতরটা ভারী থাকে, ঘুম ভেঙে গেছে, কিছুই ভালো লাগে না, তাহলে অভ্যাস দিয়ে হবে না, কথা বলা দরকার। কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন, এখানে দেখুন।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।