অনলাইন কাউন্সেলিং কি আসলেই কাজ করে?
"ফোনে কথা বলে আবার মনের চিকিৎসা হয় নাকি?" প্রশ্নটা যৌক্তিক। উত্তরটা গবেষণা থেকেই দেওয়া ভালো।
গবেষণা কী বলে
গত দুই দশকে বহু গবেষণায় দেখা গেছে, ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটির মতো সাধারণ সমস্যায় অনলাইনে দেওয়া থেরাপি, বিশেষ করে CBT, সামনাসামনি থেরাপির প্রায় সমান কার্যকর। করোনার সময় সারা পৃথিবীর থেরাপি অনলাইনে চলে গিয়েছিল, আর ফলাফল খারাপ হয়নি।
কারণটা সহজ। থেরাপির মূল উপাদান হলো কথা, বিশ্বাস আর নিয়মিততা। এর কোনোটার জন্যই এক ঘরে বসা জরুরি না।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় বাড়তি সুবিধা
- দূরত্ব। দেশের প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারদের বড় অংশ ঢাকায়। আপনি বগুড়া, ভোলা বা খাগড়াছড়িতে থাকলেও অনলাইনে একই মানের সেবা পান।
- লোকলজ্জা। চেম্বারে ঢোকার সময় পরিচিত কেউ দেখে ফেলার ভয়ে বহু মানুষ যান না। ঘরের দরজা বন্ধ করে সেশন নিলে এই ভয়টাই নেই।
- ছদ্মনাম। ভালো প্ল্যাটফর্মে আসল নাম না বলেও সেবা নেওয়া যায়।
- খরচ ও সময়। যাতায়াত নেই, সিরিয়ালে বসা নেই, আর অনলাইন সেশনের দাম সাধারণত চেম্বারের চেয়ে কম।
- টেক্সট অপশন। অনেকে মুখে বলার চেয়ে লিখে বলতে পারেন সহজে। টেক্সট সেশন তাদের জন্য দরজা খুলে দেয়।
সীমাবদ্ধতাও আছে, লুকানোর কিছু নেই
- তীব্র সংকট, আত্মহত্যার ঝুঁকি, বা বাস্তবতার সাথে সংযোগ হারানোর ক্ষেত্রে সরাসরি চিকিৎসা দরকার।
- ওষুধ লাগলে প্রেসক্রিপশনের জন্য সাইকিয়াট্রিস্টের ব্যবস্থা লাগবে।
- নেট খারাপ হলে সেশনের ছন্দ কাটে।
- ঘরে একান্ত জায়গা না থাকলে খোলামেলা বলা কঠিন। দরকার হলে হেডফোন আর টেক্সট সেশন এই সমস্যার উত্তর।
ভালো প্ল্যাটফর্ম চেনার উপায়
- কারা সেবা দিচ্ছেন তাদের নাম, ডিগ্রি আর যাচাইয়ের তথ্য স্পষ্ট থাকবে
- দাম আগে থেকে পরিষ্কার লেখা থাকবে, লুকানো খরচ না
- গোপনীয়তার নীতি স্পষ্ট থাকবে
- জরুরি অবস্থায় কী করবেন সেই নির্দেশনা থাকবে
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনারের সেশন ৬০০ টাকা থেকে, আর সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টের সেশন ২,০০০ টাকা থেকে শুরু। সেশন হয় ভয়েস বা টেক্সটে, ডিফল্টে ভিডিও ছাড়া, চাইলে ছদ্মনামে।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।