থেরাপি নিয়ে ৭টা ভুল ধারণা যা মানুষকে সাহায্য নিতে দেয় না
বাংলাদেশে মানসিক কষ্টে ভোগা মানুষের সংখ্যা কম না। কম হলো সাহায্য নেওয়া মানুষের সংখ্যা। মাঝখানের দেয়ালটা মূলত কিছু ভুল ধারণা দিয়ে গাঁথা।
ভুল ১: থেরাপি পাগলের জন্য
থেরাপি নেন মূলত সেই মানুষরা যারা চাকরি করছেন, সংসার চালাচ্ছেন, পড়াশোনা করছেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কষ্টে আছেন। দুশ্চিন্তা, সম্পর্কের জটিলতা, শোক, চাপ, এগুলো পাগলামি না, জীবনের অংশ। দাঁতে ব্যথায় ডেন্টিস্টের কাছে গেলে কেউ বলে না দাঁত-পাগল।
ভুল ২: বন্ধুর সাথে কথা বললেই তো হয়
বন্ধু অমূল্য, কিন্তু বন্ধু নিরপেক্ষ না, প্রশিক্ষিতও না, আর আপনার কথা তার নিজের জীবনের চশমা দিয়ে শোনে। থেরাপিস্ট প্রমাণিত পদ্ধতিতে কাজ করেন, গোপনীয়তার পেশাগত দায় নিয়ে। দুটোর কাজ আলাদা। বিস্তারিত এখানে।
ভুল ৩: একবার গেলে সারাজীবন যেতে হয়
বেশিরভাগ সাধারণ সমস্যায় ৬ থেকে ১৬ সেশনের কাঠামোবদ্ধ কাজ হয়। শুরুতেই লক্ষ্য ঠিক হয়, অগ্রগতি মাপা হয়, আর কাজ শেষ হলে শেষ। যে থেরাপি অনন্তকাল চলে অথচ কোথাও পৌঁছায় না, সেটা নিয়ে বরং প্রশ্ন করা উচিত।
ভুল ৪: সব ওষুধ ধরিয়ে দেবে
সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলর ওষুধ দিতেই পারেন না, তারা কথার মাধ্যমে কাজ করেন। ওষুধ দেন শুধু সাইকিয়াট্রিস্ট, এবং দরকার হলেই। হালকা থেকে মাঝারি সমস্যায় আন্তর্জাতিক গাইডলাইনও আগে কথার চিকিৎসাই বলে।
ভুল ৫: আমার কথা বাইরে চলে যাবে
গোপনীয়তা থেরাপির পেশাগত ভিত্তি। ব্যতিক্রম শুধু জীবনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে, আর সেটাও শুরুতেই বলে দেওয়া হয়। তবু ভয় থাকলে ছদ্মনামে অনলাইন সেশন নিন, পরিচয় না জানিয়েই কাজ শুরু করা যায়।
ভুল ৬: টাকার অপচয়, শুধু কথাই তো
"শুধু কথা" দিয়ে যে ফল আসে তা কয়েক দশকের গবেষণায় মাপা হয়েছে: ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটিতে থেরাপির কার্যকারিতা ওষুধের সমতুল্য, আর প্রভাব বেশি দিন টেকে। তুলনা করুন খরচের অন্য পাল্লার সাথে: নষ্ট ঘুম, ভাঙা সম্পর্ক, পড়ে যাওয়া কাজের মান, বছরের পর বছর ভেতরের কষ্ট। মনখোলায় শুরুটা ৬০০ টাকাতেও করা যায়।
ভুল ৭: ইমান শক্ত থাকলে থেরাপি লাগে না
বিশ্বাস আর দোয়া বহু মানুষের শক্তির জায়গা, সেটা থাকুক। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে আমরা দোয়াও করি, ইনসুলিনও নিই। মনের অসুখেও একই যুক্তি। ধর্ম আর চিকিৎসা প্রতিপক্ষ না, দুটো একসাথেই চলে।
শেষ কথা
সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা না। নিজের সমস্যা স্বীকার করে সমাধানে হাত দেওয়াটা বরং কঠিন কাজ, আর কঠিন কাজ দুর্বলরা পারে না।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।