ওভারথিংকিং থামানোর উপায়: একই চিন্তা বারবার ঘুরলে
কেউ একটা কথা বলেছে, আপনি সেটা নিয়ে তিন দিন ভাবছেন। একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চৌদ্দটা দিক ভেবে শেষে কিছুই ঠিক করতে পারছেন না। রাতে শুয়ে পাঁচ বছর আগের একটা লজ্জার মুহূর্ত মনে করে কুঁকড়ে যাচ্ছেন।
এর নাম ওভারথিংকিং, আর এটা ভাবনার সমস্যা না, ভাবনার ধরনের সমস্যা।
কেন থামানো এত কঠিন
মস্তিষ্ক মনে করে চিন্তা করলেই সমাধান আসবে। তাই সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই জিনিস ভাবায়। সমস্যা হলো, ওভারথিংকিং আসলে সমাধানের দিকে যায় না, একই বৃত্তে ঘোরে। ভাবা আর সমাধান করা এক জিনিস না।
পার্থক্যটা চেনার সহজ উপায়: সমাধানমুখী চিন্তা শেষ হয় একটা পদক্ষেপে ("আগামীকাল ফোন করে জিজ্ঞেস করব")। ওভারথিংকিং শেষই হয় না।
যা কাজ করে
- চিন্তাটা ধরুন আর নাম দিন। "এই যে, আমি আবার ঘুরছি।" নিজের চিন্তাকে দূর থেকে দেখতে পারাটাই প্রথম ধাপ। ধরতে পারলেই অর্ধেক শক্তি কমে যায়।
- কাগজে নামান। ঘুরতে থাকা চিন্তা লিখে ফেলুন। তারপর নিচে লিখুন: এটা নিয়ে আমি আজ ঠিক কী করতে পারি? উত্তর "কিছু না" হলে সেটাও লিখুন। মাথা জিনিসটা ফাইল-বন্ধ করতে শেখে।
- দুশ্চিন্তার সময় দিন। দিনে ১৫ মিনিট শুধু ভাবার জন্য বরাদ্দ। অন্য সময় চিন্তা এলে বলুন, "নোট নিলাম, বিকাল ৫টায়।" শুনতে হাস্যকর, গবেষণায় কার্যকর।
- শরীর দিয়ে ভাঙুন। চিন্তার লুপ মাথায় ঘোরে, শরীর নড়লে লুপ ভাঙে। হাঁটুন, গোসল করুন, ঘর গোছান, কাউকে ফোন দিন। মূল কথা: পরিবেশ বদলান।
- সিদ্ধান্তে সময়সীমা দিন। ছোট সিদ্ধান্তে ৫ মিনিট, বড়টায় এক সপ্তাহ। নিখুঁত সিদ্ধান্ত বলে কিছু নেই, আর না-সিদ্ধান্তও একটা সিদ্ধান্ত, সাধারণত সবচেয়ে খারাপটা।
- রাতের নিয়ম। রাত ১১টার পরের চিন্তা ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বিকৃত। নিজের সাথে চুক্তি করুন: এটা নিয়ে কাল সকালে ভাবব। সকালে বেশিরভাগ চিন্তা আর পাত্তাই পায় না।
কখন এটা আরও গভীর কিছুর লক্ষণ
ওভারথিংকিং যখন ঘুম কেড়ে নেয়, কাজ আটকে দেয়, আর মেজাজ টেনে নামায়, তখন এটা প্রায়ই অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশনের অংশ। রুমিনেশন, মানে অতীত নিয়ে অবিরাম চর্বিতচর্বণ, ডিপ্রেশনের অন্যতম চালিকা।
এই চক্র একা ভাঙা কঠিন, কারণ যে যন্ত্র দিয়ে ভাঙবেন সেই যন্ত্রটাই আটকে আছে। একজন প্রশিক্ষিত মানুষ বাইরে থেকে প্যাটার্নটা ধরিয়ে দিতে পারেন। মনখোলায় ঘরে বসে, ছদ্মনামে সেই কথাটা বলা যায়।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।