মনখোলা › প্যানিক অ্যাটাক: কেন হয়, হলে কী করবেন

প্যানিক অ্যাটাক: কেন হয়, হলে কী করবেন

হালনাগাদ: জুলাই ২০২৬

হঠাৎ করে বুক ধড়ফড় শুরু। শ্বাস নিতে পারছেন না। হাত-পা ঝিনঝিন, মাথা ঘুরছে, আর ভেতরে একটা নিশ্চিত অনুভূতি: আমি মরে যাচ্ছি, বা পাগল হয়ে যাচ্ছি।

তারপর হাসপাতালে গিয়ে ইসিজি, সব রিপোর্ট স্বাভাবিক। ডাক্তার বলেন কিছু হয়নি। কিন্তু আপনি জানেন, কিছু একটা তো হয়েছিল।

ওটা সম্ভবত প্যানিক অ্যাটাক ছিল।

প্যানিক অ্যাটাক কী

শরীরের বিপদ-সংকেত ব্যবস্থা ভুল করে চালু হয়ে যাওয়া। বাঘ দেখলে শরীর যা করত — হৃৎপিণ্ড দ্রুত, শ্বাস দ্রুত, পেশি টান — সেটাই হচ্ছে, শুধু বাঘটা নেই। সাধারণত ১০ মিনিটের মধ্যে তীব্রতম হয়, তারপর নিজে নিজেই নামে।

জেনে রাখুন: প্যানিক অ্যাটাকে কেউ মারা যায় না, পাগলও হয় না। ভয়ংকর লাগে, কিন্তু বিপজ্জনক না।

হার্টের সমস্যার সাথে পার্থক্য

প্রথমবার হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে হার্ট পরীক্ষা করান, এটা নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার কিছু নেই। তবে সাধারণ পার্থক্য: প্যানিক অ্যাটাক হঠাৎ চূড়ায় ওঠে আর আধা ঘণ্টার মধ্যে নেমে যায়, প্রায়ই তীব্র ভয় আর অবাস্তব লাগার অনুভূতি সাথে থাকে। একবার পরীক্ষায় হার্ট ভালো প্রমাণ হলে, বারবার একই উপসর্গে বারবার ইসিজি করানোর দরকার সাধারণত পড়ে না।

অ্যাটাকের মুহূর্তে কী করবেন

  1. নিজেকে বলুন: এটা প্যানিক, এটা বিপদ না, এটা নেমে যাবে। এই একটা বাক্য অর্ধেক কাজ করে।
  2. শ্বাস ধীর করুন, বিশেষ করে ছাড়াটা। ৪ সেকেন্ড নিন, ৬ সেকেন্ডে ছাড়ুন। দ্রুত শ্বাসই ঝিনঝিন আর মাথা ঘোরার কারণ।
  3. পালাবেন না। যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন যদি সম্ভব হয়। পালিয়ে গেলে মস্তিষ্ক শেখে ওই জায়গাটা বিপজ্জনক, আর ভয়ের তালিকা লম্বা হয়।
  4. ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং। ৫টা জিনিস দেখুন, ৪টা শব্দ, ৩টা স্পর্শ, ২টা গন্ধ, ১টা স্বাদ।
  5. অপেক্ষা করুন। ঢেউয়ের মতো, উঠবে আর নামবে।

বারবার হলে

একবার প্যানিক অ্যাটাক হলে অনেকের আসল সমস্যা শুরু হয় পরে: আবার হওয়ার ভয়। সেই ভয়ে বাজার, বাস, ক্লাস, জমায়েত এড়ানো শুরু হয়, আর জীবন ছোট হতে থাকে।

এই জায়গায় চিকিৎসা খুব ভালো কাজ করে। CBT থেরাপি প্যানিকের চক্রটা ভাঙতে শেখায়, আর সাফল্যের হার বেশ ভালো। যত আগে শুরু করবেন, ভয়ের তালিকা তত ছোট থাকতে সামলানো যাবে।

মনখোলায় সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে ঘরে বসেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।

মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?

মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।

সেশন বুক করুন