প্রিয়জন ডিপ্রেশনে থাকলে কী করবেন, কী বলবেন না
কাছের মানুষটা বদলে গেছে। কথা কমে গেছে, ঘর থেকে বেরোয় না, আগের মতো হাসে না। আপনি সাহায্য করতে চান, কিন্তু কী বলবেন বুঝতে পারছেন না। যা বলেন, মনে হয় আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
আগে যেটা বোঝা দরকার
ডিপ্রেশন ইচ্ছার অভাব না। "একটু চেষ্টা করলেই পারে" ভাবনাটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ডিপ্রেশন ইচ্ছাশক্তিটাকেই অসুস্থ করে দেয়। ভাঙা পায়ের মানুষকে যেমন "একটু দৌড়ালেই ঠিক হয়ে যাবে" বলা যায় না, এখানেও তা-ই।
যে কথাগুলো ক্ষতি করে
- "এত ভেঙে পড়ার কী আছে, তোমার চেয়ে কত মানুষ কষ্টে আছে" — কষ্টের তুলনা কষ্ট কমায় না, শুধু মুখ বন্ধ করে দেয়।
- "সব মনের ব্যাপার, ভাবা ছেড়ে দাও" — পারলে সে নিজেই ছাড়ত।
- "তোমার তো সব আছে, তাও মন খারাপ কেন" — ডিপ্রেশন হিসাব দেখে আসে না।
- "আরও বেশি করে নামাজ পড়ো / দোয়া করো" — বিশ্বাস শক্তি দেয়, কিন্তু চিকিৎসার বদলি হিসেবে চাপালে মানুষটা নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শেখে।
- "চল ঘুরে আসি, সব ঠিক হয়ে যাবে" — বেড়ানো সাহায্য করতে পারে, কিন্তু "ঠিক হয়ে যাবে" প্রতিশ্রুতিটা চাপ।
যা আসলে সাহায্য করে
- সমাধান না, উপস্থিতি। "আমি আছি, তুই যা-ই অনুভব করিস আমাকে বলতে পারিস।" ঠিক করার দায়িত্ব নেবেন না, শোনার দায়িত্ব নিন।
- শুনুন, উপদেশ ছাড়া। সে যখন বলে, মাঝখানে সমাধান ঢোকাবেন না। "হুম, বুঝছি, তারপর?" এই তিনটা শব্দ বেশিরভাগ উপদেশের চেয়ে দামি।
- ছোট বাস্তব সাহায্য। "কিছু লাগলে বলিস" না বলে নির্দিষ্ট করুন: "আজ খাবার নিয়ে আসছি", "চল ১০ মিনিট হাঁটি", "ডাক্তারের সিরিয়ালটা আমি দিয়ে দিই?"
- পেশাদার সাহায্যের দিকে আলতো করে। জোর না করে দরজা খুলুন: "একজন প্রফেশনালের সাথে একবার কথা বলে দেখবি? চাইলে আমি খুঁজে দিই, সাথেও থাকব।" প্রথমবার না বললে কিছুদিন পর আবার, নরমভাবে।
- লেগে থাকুন। ডিপ্রেশনের মানুষ ডাকে সাড়া দেয় না, দাওয়াত ফিরিয়ে দেয়। ওটা আপনাকে প্রত্যাখ্যান না, রোগটার লক্ষণ। মাঝে মাঝে ছোট মেসেজ দিতে থাকুন, উত্তর না এলেও।
জরুরি: সে যদি মরে যাওয়ার কথা বলে, "আমি না থাকলেই ভালো" জাতীয় কথা বলে, বা জিনিসপত্র বিলিয়ে দিতে শুরু করে, এটা মনোযোগ কাড়ার নাটক ভাববেন না। সরাসরি জিজ্ঞেস করুন: "তুই কি নিজের ক্ষতি করার কথা ভাবছিস?" জিজ্ঞেস করলে ঝুঁকি বাড়ে না, বরং কমে। হ্যাঁ-সূচক কিছু বুঝলে একা রাখবেন না, পরিবারকে জানান, কান পেতে রই ০৯৬১২-১১৯৯১১, প্রয়োজনে হাসপাতাল।
নিজের কথাও ভাবুন
কারো ডিপ্রেশনের পাশে দীর্ঘদিন থাকা ক্লান্তিকর। আপনার নিজের বিশ্রাম, নিজের মানুষ, নিজের জীবন চালু রাখুন। ডুবন্ত মানুষকে বাঁচাতে হলে নিজের লাইফ জ্যাকেট আগে।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।