সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি: বুঝবেন কীভাবে, কমাবেন কীভাবে
সকালে চোখ খুলেই ফোন। খেতে বসে ফোন। বাথরুমে ফোন। রাতে "আর পাঁচ মিনিট" বলে দেড় ঘণ্টা। আর স্ক্রল শেষে সেই চেনা অনুভূতি: এত সময় গেল, ভালো তো লাগল না।
এটা কি আসলেই আসক্তি?
এই অ্যাপগুলো দুর্ঘটনাক্রমে টানে না, টানার জন্যই বানানো। প্রতিটা নোটিফিকেশন, লাইক আর অনির্দিষ্ট স্ক্রলের নতুনত্ব মস্তিষ্কের পুরস্কার-ব্যবস্থাকে ঠিক সেভাবে নাড়ায় যেভাবে জুয়ার মেশিন নাড়ায়। কখন ভালো কিছু আসবে জানা নেই, তাই টানতেই থাকে।
সতর্ক হওয়ার লক্ষণ:
- কমাতে চেয়েছেন, পারেননি, একাধিকবার
- ফোন কাছে না থাকলে অস্থিরতা
- স্ক্রলের জন্য ঘুম, পড়া বা কাজ পেছাচ্ছে
- স্ক্রল শেষে ভালো লাগার বদলে খালি বা খারাপ লাগে
- বাস্তব আড্ডায় বসেও হাত ফোনে
মনের ওপর দাম
- তুলনা। ফিডে সবার সেরা মুহূর্ত, আপনার পুরো দিনের সাথে তুলনা। এটা মন খারাপ আর হীনম্মন্যতার নীরব কারখানা।
- ঘুম। রাতের স্ক্রল ঘুম পেছায়, কম ঘুম মেজাজ ভাঙে, ভাঙা মেজাজ আবার স্ক্রলে টানে।
- মনোযোগ। প্রতি ৩০ সেকেন্ডে নতুন উত্তেজনায় অভ্যস্ত মস্তিষ্কের কাছে বই বা কাজ একঘেয়ে লাগে।
নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর বাস্তব উপায়
একবারে সব ছাড়ার শপথ সাধারণত তিন দিন টেকে। ছোট, ধারালো পরিবর্তন বেশি কাজ করে:
- নোটিফিকেশন বন্ধ। মানুষের মেসেজ ছাড়া বাকি সব। ডাক আসা বন্ধ হলে যাওয়াও কমে।
- দুটো ফোনমুক্ত জোন। খাওয়ার টেবিল আর বিছানা। শুধু এই দুটো নিয়মই বড় পার্থক্য গড়ে।
- ঘর্ষণ যোগ করুন। সবচেয়ে টানা অ্যাপ হোম স্ক্রিন থেকে সরান, লগআউট করে রাখুন। খুলতে তিন ধাপ লাগলে অর্ধেকবার আর খোলা হয় না।
- স্ক্রলের বদলি ঠিক করুন। অভ্যাস শূন্যতা সহ্য করে না। বই, নামাজ-প্রার্থনা, হাঁটা, মানুষের সাথে কথা, যেটা আপনার, সেটা হাতের কাছে রাখুন।
- সময় দেখুন। ফোনের স্ক্রিন টাইম রিপোর্ট সপ্তাহে একবার দেখুন। সংখ্যাটা চোখে দেখাই অনেক সময় যথেষ্ট ধাক্কা।
কখন এটা অন্য কিছুর লক্ষণ
অনেক সময় অতিরিক্ত স্ক্রল রোগ না, উপসর্গ। ভেতরের শূন্যতা, একাকীত্ব, দুশ্চিন্তা বা ডিপ্রেশন থেকে পালানোর দরজা। সেক্ষেত্রে ফোন কমালে অস্থিরতা বাড়ে, কারণ যেটা থেকে পালাচ্ছিলেন সেটা সামনে এসে দাঁড়ায়।
তখন ফোনের সাথে না, ভেতরের জিনিসটার সাথে কাজ করা দরকার। মনখোলায় সেই কথাটা ছদ্মনামে, বিচার ছাড়া বলা যায়।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।