সম্পর্কের টানাপোড়েন: একই ঝগড়া বারবার হলে
খেয়াল করে দেখুন, আপনাদের ঝগড়াগুলো আসলে কয়টা বিষয়ে? বেশিরভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে দুই-তিনটা বিষয়ই ঘুরেফিরে আসে। টাকা, শ্বশুরবাড়ি, সময় না দেওয়া, সন্তান, বা সেই পুরনো একটা ঘটনা যেটার মীমাংসা কোনোদিন হয়নি।
একই ঝগড়া বারবার হয় কেন
কারণ ঝগড়াটা যে বিষয়ে হয়, আসল ব্যথা সাধারণত তার নিচে থাকে। "তুমি দেরি করে আসো" এর নিচে থাকে "আমি তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না।" "এত খরচ করো কেন" এর নিচে থাকে নিরাপত্তার ভয়। উপরের বিষয়টা নিয়ে যত তর্কই হোক, নিচের ব্যথাটা যতদিন অশোনা থাকে, ঝগড়া ফিরে আসবেই।
যে অভ্যাসগুলো সম্পর্ক ক্ষয় করে
- ব্যক্তি আক্রমণ। "তুমি দেরি করেছ" আর "তুমি একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ" এক কথা না। প্রথমটা আচরণের সমালোচনা, দ্বিতীয়টা চরিত্রের রায়।
- তাচ্ছিল্য। চোখ ঘোরানো, ব্যঙ্গ, ছোট করা। গবেষণায় এটাই বিচ্ছেদের সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাস।
- পাথর হয়ে যাওয়া। একজন কথা বলতে চায়, অন্যজন দেয়াল তুলে চুপ। চুপ থাকা শান্তি না, ওটা জমতে থাকা।
- পুরনো ফাইল খোলা। আজকের ঝগড়ায় পাঁচ বছর আগের ঘটনা টানলে আজকেরটাও মীমাংসা হয় না।
নিজেরা যা চেষ্টা করতে পারেন
- রাগের চূড়ায় মীমাংসা করতে যাবেন না। উত্তেজিত অবস্থায় মস্তিষ্কের যুক্তির অংশ বন্ধ থাকে। ২০-৩০ মিনিটের বিরতি নিন, তবে বলে নিন "আমি পালাচ্ছি না, একটু পরে কথা বলি।"
- অভিযোগের বদলে অনুভূতি। "তুমি কখনো সময় দাও না" এর বদলে "তুমি ব্যস্ত থাকলে আমার একা লাগে।" প্রথমটার উত্তর আত্মপক্ষ সমর্থন, দ্বিতীয়টার উত্তর কাছে আসা।
- জেতা বন্ধ করুন। ঝগড়ায় আপনি জিতলে সম্পর্ক হারে। লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে হারানো না, সমস্যাটাকে হারানো।
- ভালো সময় আলাদা রাখুন। সম্পর্ক শুধু সমস্যা মেটানোর প্রজেক্ট না। সপ্তাহে অন্তত একটা সময় রাখুন যেখানে অভিযোগ নিষিদ্ধ।
কখন বাইরের সাহায্য দরকার
যদি একই চক্র মাসের পর মাস ভাঙতে না পারেন, কথা বললেই ঝগড়া হয় বলে কথা বলাই বন্ধ হয়ে গেছে, বা একজনের মনে বিচ্ছেদের চিন্তা ঘুরছে, তাহলে একজন নিরপেক্ষ প্রশিক্ষিত মানুষের উপস্থিতি অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।
কাপল কাউন্সেলিং মানে বিচারক না, রেফারি। কে ঠিক কে ভুল রায় দেওয়া তার কাজ না, দুজনকে সেই কথাগুলো বলতে সাহায্য করা যেগুলো বাড়িতে বললেই ঝগড়া লাগে।
একা শুরু করতে চাইলেও ক্ষতি নেই। একজন আগে গেলে অন্যজন পরে প্রায়ই আসে। মনখোলায় ঘরে বসে, ছদ্মনামে শুরু করা যায়।
মন খুলে বলার জায়গা খুঁজছেন?
মনখোলায় সার্টিফাইড লিসেনার বা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সাথে সম্পূর্ণ প্রাইভেট অনলাইন সেশন নিতে পারেন। ঘরে বসেই, নির্ধারিত সময়ে, ছদ্মনামে। ভিডিও অন করা বাধ্যতামূলক নয়।